মহিলাদের ব্রেস্ট ক্যান্সার

মহিলাদের ব্রেস্ট ক্যান্সার

()

মহিলাদের ব্রেস্ট ক্যান্সার: প্রাথমিক লক্ষণ, উপসর্গ, প্রকার, ঝুঁকির কারণ, এবং প্রতিরোধ

ব্রেস্ট ক্যান্সার মহিলাদের মধ্যে সবচেয়ে সাধারণ ক্যান্সারগুলির মধ্যে একটি। এর প্রাথমিক পর্যায়ে শনাক্তকরণ এবং সঠিক চিকিৎসা পদ্ধতি গ্রহণ করলে এই রোগ থেকে সেরে ওঠার সম্ভাবনা অনেকটাই বেড়ে যায়।

প্রাথমিক লক্ষণ ও উপসর্গ:
1. **বুকের মধ্যে চাকা (লাম্প)**: স্তনের মধ্যে বা বাহুর নিচে কোনো শক্ত চাকা অনুভব করা, যা নড়াচড়া করে না বা ধীরে ধীরে বড় হতে থাকে।
2. **স্তনের আকার বা আকারের পরিবর্তন**: স্তনের আকারে আকস্মিক পরিবর্তন বা অস্বাভাবিক ফোলা।
3. **স্তনের ত্বকে পরিবর্তন**: স্তনের ত্বকে লালচে ভাব, ফোলাভাব বা ত্বক কমলানো (রিঙ্কলিং)।
4. **নিপল থেকে নির্গত তরল**: নিপল থেকে রক্ত বা অন্যান্য তরল নিঃসরণ হতে পারে।
5. **নিপল ঢুকে যাওয়া**: নিপল স্বাভাবিকের তুলনায় ভিতরের দিকে ঢুকে যেতে পারে।
6. **স্তনে ব্যথা বা অস্বস্তি**: স্তনে বা তার চারপাশে কোনো ব্যথা বা চাপ অনুভব হওয়া।

ব্রেস্ট ক্যান্সারের প্রকার:
1. **ডাকটাল কার্সিনোমা ইন সিচু (DCIS)**: ক্যান্সার কোষগুলি স্তনের নালীগুলির ভিতরে সীমাবদ্ধ থাকে, এবং এই পর্যায়ে ক্যান্সার শরীরে ছড়িয়ে পড়ে না।
2. **ইনভেসিভ ডাকটাল কার্সিনোমা (IDC)**: এই ধরনের ক্যান্সার নালী থেকে বেরিয়ে স্তনের অন্যান্য টিস্যুগুলিতে ছড়িয়ে পড়ে।
3. **ইনভেসিভ লোবুলার কার্সিনোমা (ILC)**: এটি স্তনের লোবুল থেকে শুরু হয় এবং অন্যান্য টিস্যুগুলিতে ছড়ায়।
4. **ইনফ্ল্যামেটরি ব্রেস্ট ক্যান্সার**: এটি একটি বিরল এবং আক্রমণাত্মক ক্যান্সার, যা স্তনে লালচে ভাব এবং ফোলা সৃষ্টি করে।
5. **ট্রিপল-নেগেটিভ ব্রেস্ট ক্যান্সার**: এই ধরনের ক্যান্সার হরমোন রিসেপ্টর এবং হের২ প্রোটিনের ওপর নির্ভর করে না, ফলে এটি চিকিত্সা করা কিছুটা কঠিন হতে পারে।

ঝুঁকির কারণ:
1. **বয়স**: বয়স বাড়ার সাথে সাথে ব্রেস্ট ক্যান্সারের ঝুঁকি বাড়ে, বিশেষ করে ৫০ বছরের পর।
2. **পারিবারিক ইতিহাস**: মায়ের বা বোনের ব্রেস্ট ক্যান্সার থাকলে ঝুঁকি বেশি থাকে।
3. **জেনেটিক পরিবর্তন (BRCA1 বা BRCA2 জিন)**: এই জেনেটিক পরিবর্তন থাকলে ক্যান্সারের ঝুঁকি অনেক বেড়ে যায়।
4. **হরমোন থেরাপি**: মেনোপজের পর দীর্ঘমেয়াদী হরমোন থেরাপি নেওয়া।
5. **বেশি মদ্যপান**: অতিরিক্ত অ্যালকোহল সেবন ক্যান্সারের ঝুঁকি বাড়ায়।
6. **অস্বাস্থ্যকর জীবনধারা**: অস্বাস্থ্যকর খাদ্যাভ্যাস, অতিরিক্ত ওজন, এবং শারীরিকভাবে নিষ্ক্রিয়তা ক্যান্সারের কারণ হতে পারে।

প্রতিরোধের উপায়:
1. **নিয়মিত স্ব-পরীক্ষা ও স্ক্রিনিং**: স্তন পরীক্ষা এবং নির্দিষ্ট বয়সের পর নিয়মিত ম্যামোগ্রাফি করানো জরুরি।
2. **স্বাস্থ্যকর খাদ্যাভ্যাস**: তাজা শাকসবজি, ফল, এবং অ্যান্টিঅক্সিডেন্ট সমৃদ্ধ খাদ্য গ্রহণ ক্যান্সারের ঝুঁকি কমাতে সাহায্য করে।
3. **শারীরিক সক্রিয়তা**: নিয়মিত ব্যায়াম এবং শরীরচর্চা শরীরকে সুস্থ রাখে এবং ওজন নিয়ন্ত্রণে সহায়ক হয়।
4. **মদ্যপান সীমিত করা**: অ্যালকোহলের পরিমাণ সীমিত রাখা উচিত।
5. **তামাকজাত দ্রব্য বর্জন**: ধূমপান এবং তামাকের অন্যান্য উপাদান ক্যান্সারের ঝুঁকি বাড়ায়।
6. **পারিবারিক ইতিহাস থাকলে**: যদি পারিবারিক ইতিহাস থাকে তবে জেনেটিক পরীক্ষার কথা বিবেচনা করতে পারেন।

ব্রেস্ট ক্যান্সারের প্রাথমিক লক্ষণগুলিকে অবহেলা করা উচিত নয়। নিয়মিত পরীক্ষা এবং সচেতনতা থাকলে এটি দ্রুত শনাক্ত করা সম্ভব এবং সময়মতো চিকিৎসা শুরু করা যায়।

ফটো গুগল থেকে নেওয়া হয়েছে

How useful was this post?

Click on a star to rate it!

Comments

No comments yet. Why don’t you start the discussion?

Leave a Reply