হিমোফিলিয়া (Hemophilia) একটি জেনেটিক বা বংশগত রক্তজনিত রোগ, যেখানে রক্ত স্বাভাবিকভাবে জমাট বাঁধতে পারে না। এতে আক্রান্ত ব্যক্তির শরীরের কোথাও আঘাত লাগলে রক্তক্ষরণ সহজে বন্ধ হয় না, কারণ রক্তের জমাট বাঁধার জন্য প্রয়োজনীয় প্রোটিন বা ক্লটিং ফ্যাক্টর অনুপস্থিত বা কম থাকে।
লক্ষণ:
হিমোফিলিয়ার সাধারণ লক্ষণগুলো হলো:
1. অতিরিক্ত রক্তক্ষরণ: আঘাতের পর ছোটখাটো কাটা বা ক্ষত থেকেও রক্ত সহজে বন্ধ হয় না।
2. স্বতঃস্ফূর্ত রক্তপাত: শরীরের ভিতরে (যেমন জয়েন্ট বা পেশীতে) কোনো আঘাত ছাড়াই রক্তক্ষরণ হতে পারে।
3. জয়েন্টে ব্যথা ও ফোলাভাব: পায়ের হাঁটু, কনুই, গোড়ালি ইত্যাদিতে রক্ত জমা হয়ে ফুলে যেতে পারে।
4. দীর্ঘস্থায়ী রক্তক্ষরণ: দাঁত ওঠানোর পর, অস্ত্রোপচারের সময় বা পরে।
5. নাক থেকে রক্তপাত (নাক ফাটা)।
কারণ:
হিমোফিলিয়া একটি বংশগত রোগ, যা সাধারণত এক্স ক্রোমোজোমের মাধ্যমে ছড়ায়। এটি ক্লটিং ফ্যাক্টর ৮ বা ৯-এর ঘাটতির কারণে হয়।
1. হিমোফিলিয়া এ: ক্লটিং ফ্যাক্টর ৮-এর অভাব।
2. হিমোফিলিয়া বি: ক্লটিং ফ্যাক্টর ৯-এর অভাব।
প্রকার:
হিমোফিলিয়া প্রধানত দুই প্রকার:
1. হিমোফিলিয়া এ (Hemophilia A): এটিকে ক্লাসিক হিমোফিলিয়া বলা হয়, এবং এটি সবচেয়ে সাধারণ। এতে ক্লটিং ফ্যাক্টর ৮-এর ঘাটতি থাকে।
2. হিমোফিলিয়া বি (Hemophilia B): এটিকে ক্রিসমাস ডিজিজও বলা হয়, এবং এতে ক্লটিং ফ্যাক্টর ৯-এর অভাব থাকে।
চিকিৎসা:
হিমোফিলিয়ার জন্য নির্দিষ্ট কোনো স্থায়ী চিকিৎসা নেই, তবে এর চিকিৎসার মাধ্যমে রক্তক্ষরণ নিয়ন্ত্রণ করা যায়। চিকিৎসার পদ্ধতিগুলো হলো:
1. ক্লটিং ফ্যাক্টর থেরাপি: রোগীদের শরীরে ঘাটতিপূর্ণ ক্লটিং ফ্যাক্টর ইনজেকশন বা ইন্ট্রাভেনাস (IV) এর মাধ্যমে দেওয়া হয়।
2. ফিজিক্যাল থেরাপি: যেসব জয়েন্টে রক্তক্ষরণের কারণে ক্ষতি হয়েছে, তাদের কার্যক্ষমতা ফিরিয়ে আনার জন্য ফিজিক্যাল থেরাপি করা হয়।
3. রোগ প্রতিরোধ ব্যবস্থা: আঘাত বা ক্ষতির আশঙ্কা কমানোর জন্য সাবধানতা অবলম্বন করতে হয়।
4. ডেসমোপ্রেসিন (DDAVP): হিমোফিলিয়া এ রোগীদের ক্ষেত্রে এটি কিছুক্ষেত্রে ব্যবহার করা হয়, যা অস্থায়ীভাবে ফ্যাক্টর ৮-এর উৎপাদন বাড়ায়।
হিমোফিলিয়ার চিকিৎসা জীবনের মান উন্নত করতে সহায়ক, তবে রোগটি সম্পূর্ণ নিরাময়যোগ্য নয়।
Photo Google theke neeya hoyeche


