হার্ট অ্যাটাক কখন হয়:
হার্ট অ্যাটাক (মায়োকার্ডিয়াল ইনফার্কশন) ঘটে যখন হৃদযন্ত্রের কোনো অংশে রক্তপ্রবাহ বন্ধ হয়ে যায় বা বাধাপ্রাপ্ত হয়। সাধারণত, করোনারি ধমনীগুলিতে জমে থাকা চর্বি, কোলেস্টেরল বা রক্ত জমাট বেঁধে যাওয়ার কারণে এই সমস্যাটি দেখা দেয়। যখন হার্টের পেশিতে পর্যাপ্ত অক্সিজেন পৌঁছাতে পারে না, তখন সেই পেশি ক্ষতিগ্রস্ত হয়, যা হার্ট অ্যাটাকের কারণ হয়।
ফটো গুগল থেকে নেওয়া হয়েছে
হার্ট অ্যাটাকের লক্ষণ ও উপসর্গ:
1. বুকে তীব্র ব্যথা বা চাপ: বুকের মাঝখানে বা বাঁ দিকে শক্ত চেপে ধরা ব্যথা হয়। এই ব্যথা কয়েক মিনিট ধরে থাকতে পারে বা বারবার আসতে যেতে পারে।
2. বাঁ হাত, পিঠ, ঘাড়, চোয়াল বা পেটে ব্যথা: বুকের ব্যথা ছাড়াও ব্যথা হাত, পিঠ, ঘাড় বা চোয়ালের দিকে ছড়িয়ে পড়তে পারে।
3. শ্বাসকষ্ট: শ্বাস নিতে সমস্যা হতে পারে। হাঁপানির মতো অনুভূতি হতে পারে।
4. ঘাম: অতিরিক্ত ঠান্ডা ঘাম হওয়া হার্ট অ্যাটাকের সাধারণ লক্ষণ।
5. বমিভাব বা বমি করা: অনেক সময় হার্ট অ্যাটাকের সময় বমি হতে পারে বা বমিভাব হতে পারে।
6. অস্বাভাবিক ক্লান্তি: হঠাৎ প্রচণ্ড ক্লান্তি অনুভূত হওয়া, বিশেষ করে মহিলাদের ক্ষেত্রে এই লক্ষণটি সাধারণ।
7. মাথা ঘোরা: মাথা ঘোরা বা অসুস্থ বোধ করা, যা কখনও কখনও জ্ঞান হারানোর দিকে নিয়ে যেতে পারে।
প্রাথমিক চিকিৎসা:
1. দ্রুত অ্যাম্বুলেন্স ডাকুন: যদি মনে হয় কেউ হার্ট অ্যাটাক করছে, তাহলে দ্রুত অ্যাম্বুলেন্স ডাকুন।
2. এসপিরিন দিন: রোগীর কাছে অ্যাসপিরিন থাকলে একটি ৩০০ মিলিগ্রাম অ্যাসপিরিন জিভের নিচে রাখুন । এটি রক্ত জমাট বাঁধা কমাতে সাহায্য করবে।
3. শান্তভাবে বসতে বলুন: রোগীকে আরামদায়ক স্থানে বসতে বলুন এবং বিশ্রাম নিতে বলুন। এতে শ্বাসপ্রশ্বাস সহজ হবে।
4. CPR দিতে প্রস্তুত থাকুন: যদি রোগী শ্বাস নিতে না পারে বা অজ্ঞান হয়ে যায়, তাহলে CPR (Cardiopulmonary Resuscitation) শুরু করুন। বুকের মাঝখানে চাপ দিন এবং প্রয়োজন হলে মুখে শ্বাস দিন।
চিকিৎসা:
1. ওষুধ: হার্ট অ্যাটাকের সময় সাধারণত এসপিরিন বা অন্য রক্ত তরল করার ওষুধ দেওয়া হয়। এছাড়া, রক্তচাপ নিয়ন্ত্রণ ও ব্যথা কমানোর জন্য অন্য ওষুধও দেওয়া হতে পারে।
2. এনজিওপ্লাস্টি: হার্টের ব্লকেজ খোলার জন্য এনজিওপ্লাস্টি করা হয়, যেখানে ক্ষতিগ্রস্ত ধমনীতে স্টেন্ট বসানো হয়।
3. করোনারি আর্টারি বাইপাস গ্রাফটিং (CABG): যদি ধমনীতে গুরুতর ব্লকেজ থাকে, তবে বাইপাস সার্জারি করে রক্তপ্রবাহ ফেরানো হয়।
4. রিহ্যাবিলিটেশন: চিকিৎসার পর রিহ্যাব প্রোগ্রাম রোগীকে সুস্থ হতে সাহায্য করে, যেখানে খাদ্যাভ্যাস, ব্যায়াম, ওষুধ এবং জীবনধারা নিয়ে কাজ করা হয়।
প্রতিরোধ:
1. সুষম খাদ্য গ্রহণ করুন: ফল, শাকসবজি, মাছ, এবং কম চর্বিযুক্ত খাবার খান। কোলেস্টেরল ও চর্বি কমানো জরুরি।
2. নিয়মিত ব্যায়াম: প্রতিদিন অন্তত ৩০ মিনিট হাঁটুন বা হালকা ব্যায়াম করুন। এটি হার্ট সুস্থ রাখে।
3. ধূমপান ও মদ্যপান বর্জন করুন: ধূমপান ও অতিরিক্ত মদ্যপান হার্টের জন্য অত্যন্ত ক্ষতিকর।
4. ওজন নিয়ন্ত্রণে রাখুন: অতিরিক্ত ওজন হার্ট অ্যাটাকের ঝুঁকি বাড়ায়। তাই স্বাস্থ্যকর ওজন বজায় রাখুন।
5. মানসিক চাপ কমান: মানসিক চাপ কমিয়ে রাখুন। যোগব্যায়াম ও মেডিটেশন স্ট্রেস কমাতে সাহায্য করে।
6. রক্তচাপ ও ডায়াবেটিস নিয়ন্ত্রণে রাখুন: রক্তচাপ ও ডায়াবেটিস থাকলে নিয়মিত চিকিৎসকের পরামর্শ অনুযায়ী ওষুধ নিন এবং এগুলি নিয়ন্ত্রণে রাখুন।
এই পদক্ষেপগুলি অনুসরণ করলে হার্ট অ্যাটাকের ঝুঁকি কমানো সম্ভব।


