অ্যাজমা (Asthma) ফুসফুসের একটি দীর্ঘস্থায়ী রোগ যা শ্বাসনালীতে প্রদাহ সৃষ্টি করে, যার ফলে শ্বাস নিতে অসুবিধা হয়। অ্যাজমা নিয়ন্ত্রণে না থাকলে এটি মারাত্মক হতে পারে।
অ্যাজমার প্রকারভেদ:
1. অ্যালার্জি অ্যাজমা (Allergic Asthma): এটি পরিবেশের অ্যালার্জেন (যেমন, ধুলা, ফুলের রেণু, পশুর লোম) দ্বারা সৃষ্ট।
2. নন-অ্যালার্জিক অ্যাজমা (Non-Allergic Asthma): অ্যালার্জেন ছাড়াও ধোঁয়া, ঠান্ডা বাতাস, স্ট্রেস ইত্যাদি কারণে সৃষ্ট হয়।
3. কর্মস্থল অ্যাজমা (Occupational Asthma): কর্মক্ষেত্রে কোনো বিশেষ রাসায়নিক বা ধুলার কারণে হয়।
4. রাত্রিকালীন অ্যাজমা (Nocturnal Asthma): রাতে ঘুমানোর সময় অ্যাজমার উপসর্গ বাড়তে থাকে।
5. বাচ্চাদের অ্যাজমা (Childhood Asthma): ছোটদের মধ্যে এই রোগ বেশি দেখা যায়, বিশেষত যাদের পরিবারের ইতিহাসে অ্যাজমা আছে।
উপসর্গ:
শ্বাস নিতে অসুবিধা
কাশি, বিশেষত রাতে বা সকালে
বুক চাপা অনুভব করা
শ্বাসপ্রশ্বাসের সময় শোঁ শোঁ শব্দ
তীব্র শ্বাসকষ্টের সময় শ্বাস-প্রশ্বাস দ্রুত হওয়া
কারণ:
অ্যালার্জেন (যেমন, ধুলা, ফুলের রেণু, পশুর লোম)
ধোঁয়া ও বায়ু দূষণ
ঠান্ডা বা শুষ্ক আবহাওয়া
ভাইরাসজনিত সংক্রমণ
মানসিক চাপ বা উদ্বেগ
কিছু ওষুধ
পারিবারিক ইতিহাস (জেনেটিক কারণ)
ঝুঁকি:
পারিবারিক অ্যাজমার ইতিহাস
অ্যালার্জির ইতিহাস
ধূমপান বা পরোক্ষ ধূমপান
বেশি দূষিত পরিবেশে বসবাস
ফুসফুস সংক্রান্ত সংক্রমণ
রোগ নির্ণয়:
স্পাইরোমেট্রি (Spirometry): ফুসফুসের কার্যক্ষমতা মাপার জন্য এই পরীক্ষা করা হয়।
পিক ফ্লো মিটার (Peak Flow Meter): শ্বাসের গতি মাপার জন্য ব্যবহৃত হয়।
অ্যালার্জি টেস্ট: কোনো বিশেষ অ্যালার্জেন অ্যাজমা সৃষ্টি করছে কিনা তা নির্ণয় করতে।
এক্স-রে বা সিটি স্ক্যান: ফুসফুসের অবস্থা বুঝতে।
চিকিৎসা:
1. ইনহেলড স্টেরয়েড (Inhaled Steroids): প্রদাহ কমানোর জন্য।
2. ব্রঙ্কোডিলেটর (Bronchodilators): শ্বাসনালীকে প্রসারিত করে শ্বাস নিতে সাহায্য করে।
3. মন্টেলুকাস্ট (Montelukast): প্রদাহ নিয়ন্ত্রণে সাহায্যকারী ওষুধ।
4. অ্যালার্জি নিয়ন্ত্রণ: অ্যালার্জির কারণগুলিকে চিহ্নিত করে তা থেকে দূরে থাকা।
5. অক্সিজেন থেরাপি: অ্যাজমার তীব্রতার ক্ষেত্রে শ্বাসের সমস্যা কমাতে।
6. ইমারজেন্সি চিকিৎসা: যদি অ্যাজমা খুব খারাপ অবস্থায় পৌঁছায়, তবে তাত্ক্ষণিক চিকিৎসার প্রয়োজন হতে পারে, যেমন, হাসপাতালে ভর্তির দরকার হতে পারে।
প্রতিরোধ:
ধূমপান থেকে দূরে থাকা
বায়ু দূষণ থেকে বাঁচতে মাস্ক পরিধান করা
ঠান্ডা ও ভাইরাল সংক্রমণ থেকে সতর্ক থাকা
নিয়মিত ইনহেলার বা ওষুধ ব্যবহার করা
অ্যালার্জেন এড়ানো, যেমন ধুলা, পশুর লোম, ফুলের রেণু
নিয়মিত শারীরিক ব্যায়াম করা (চিকিৎসকের পরামর্শ অনুযায়ী)
অ্যাজমা দীর্ঘস্থায়ী হলেও নিয়মিত চিকিৎসা ও সতর্কতা গ্রহণ করলে এটি নিয়ন্ত্রণে রাখা সম্ভব।
ফটো গুগল থেকে নেওয়া হয়েছে


